যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ‘অসম্ভব’ কিছু নয়
একটি প্লে-অফ বাছাই পর্ব ম্যাচ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে পৌঁছে দিতে পারে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত আসরের দ্বারপ্রান্তে। তবে ওই অভিযানের শুরুতে তাদের হারাতে হবে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে।
প্লে-অফে খেলার যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমেই সিরিয়া ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের চুড়ন্ত পর্ব থেকে চার ম্যাচ দূরত্বে পৌঁছে গেছে। তবে প্রথমে এশিয়া অঞ্চল থেকে কোয়ালিফাই হতে হবে। আঞ্চলিক সূচি অনুযায়ী প্রথমে হোম ম্যাচে এবং পরে এ্যাওয়ে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করতে হবে তাদের। নিজ দেশে গৃহযুদ্ধ চলার কারণে হোম ম্যাচটি মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করেছে সিরিয়া।
আগামীকাল মালাক্কায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। মঙ্গলবার ফিরতি লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিডনিতে। এই ম্যাচ দুটিতে জয়ী দল দুই লেগের ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কনকাকাফ অঞ্চলের চতুর্থস্থানধারী দলের। বর্তমানে সেখানে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই পর্বে পৌঁছাতেও কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে সিরিয়াকে। তারা তীব্র লড়াই করে ড্র করেছে মহাদেশের হেভিওয়েট দল দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে। পাশাপাশি জয়লাভ করেছে চীন, উজবেকিস্তান ও কাতারের বিপক্ষে।
সিরিয়ার কোচ আইমান আল হাকিম বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, ‘সিরিয়ার এশিয়ান অঞ্চলের প্লে-অফে পৌঁছানোটাও এক প্রকার অলৌকিক বিষয়। আমরা যে অবস্থার মধ্যে রয়েছি তাতে এমনটা কেউ আশা করেনি। এটি সম্ভব হয়েছে কেবল খেলোয়াড়দের একাগ্রতার কারণে। আমাদের প্রত্যাশা বিশ্বকাপের চুড়ান্ত পর্বে পৌঁছে স্বপ্ন পূরণ করবো। দলের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাসহ সিরিয়ার প্রতিটি নাগরিকই একই স্বপ্ন লালন করছে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৭৫তম অবস্থানে থাকা সিরিয়া কখনো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। গত মাসে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে ইনজুরি টাইমে সমতাসুচক গোলের কল্যাণে এশিয়া অঞ্চল থেকে প্লে-অফ পর্বে খেলার সুযোগ পায় তারা। তেহরানে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে আল সোমার সমতাসূচক গোলের ফলে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে সিরিয়া। দেশটির জন্য এটি এতটাই আবেগের বিষয় হয়ে পড়েছিল যে সিরিয়া টিভির ধারাভাষ্যকার পুরো দুই মিনিট প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলকে।
আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠির পক্ষে সমর্থন জানানোর কারণে তারকা খেলোয়াড় আল সোমা ও আল খাতিব বেশ কিছুদিন জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। চলতি বছর আল হাকিম প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা ফিরে আসেন কাস্পিয়ান ঈগলস শিবিরে। এতে অনেকগুণ বেড়ে যায় দলীয় সামর্থ্য।
আল হাকিম বলেন, ‘সবাই জানে আমরা কতটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছি। গৃহযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে গোটা দেশে এবং ক্রীড়াঙ্গণসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে। বাইরে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করা কঠিন। এমনকি উচ্চপর্যায়ের প্রীতি ম্যাচ কিংবা অনুশীলন ম্যাচের আয়োজন করা যায় না। আরবসহ বিদেশী বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিল আমাদের গ্রুপের মধ্যে আমরাই দুর্বলতম দল। এসব ঘটনার একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের মধ্যে। ফলে আমরা গভীর একাগ্রতা নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে অফে অবশ্য আন্ডারডগ হিসেবেই বিবেচিত হবে সিরিয়া। কারণ তারা সর্বশেষ তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে এবং ২০০৬ সালে শেষ ষোলতে খেলার যোগ্যতা দেখিয়েছে। যদিও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে এবার সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি সকারুসরা।
আল হাকিম বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করা বেশ কঠিন। তাদের পেশাদার ফুটবলার এবং খেলার ধরন সবকিছুই আলাদা। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কোনো কথা নেই। আমাদের এটি প্রমাণ করতে হবে যে সুযোগ পেলে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারি।’
No comments